কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৬২৪
কুমিল্লার ১৮ থানায় একযোগে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। বুধবার সন্ধ্যার পর শুরু হওয়া এ অভিযানে রাত দেড়টা পর্যন্ত ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কিশোর ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও রয়েছে। তাদের পরিচয়, বয়স এবং কোনো অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না—এসব বিষয় যাচাই করা হচ্ছে।
একযোগে ১৮ থানায় অভিযান
জেলা পুলিশের নির্দেশনায় বুধবার সন্ধ্যার পর জেলার সব থানায় একসঙ্গে অভিযান শুরু হয়।
পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে সন্দেহভাজনদের পাশাপাশি বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদেরও আটক করে।
জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান জানান, উঠতি বয়সী কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা ঠেকাতেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
যেভাবে যাচাই হচ্ছে আটক ব্যক্তিদের
পুলিশ জানিয়েছে, আটক সবাইকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। যাচাই-বাছাইয়ের পর যাদের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ না মিললে অনেককে সতর্ক করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হতে পারে।
থানায় থানায় স্বজনদের ভিড়
আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাতেই বিভিন্ন থানার সামনে স্বজনদের ভিড় দেখা যায়।
বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের আটকের খবর পেয়ে অনেক অভিভাবক সন্তানদের পরিচয় নিশ্চিত করতে থানায় ছুটে যান। কেউ কেউ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র নিয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
অপ্রতিম হত্যার পর কিশোর গ্যাং নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে আগে থেকেই উদ্বেগ ছিল। তবে সম্প্রতি ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন লালমাই পাহাড়ের একটি নির্জন এলাকা থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে দুজন কিশোর বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনার পর কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের অভিযান ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
অভিযান চলবে
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা বন্ধে শুধু অভিযান নয়, তাদের গতিবিধির ওপরও নজর রাখা হচ্ছে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের নভেম্বর থেকে কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযানে ২৫০ জনের বেশি কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকেও আরও সক্রিয় হতে হবে।